কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামবাহী চারটি বিশেষ লরির বহর।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে বহরটি রওনা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের হাটিকুমরুলের পাঁচলিয়া আন্তঃনগর ট্রাক বিশ্রামাগার এলাকায় যাত্রাবিরতি নেয়। বিরতি শেষে বহরটি রূপপুর প্রকল্প এলাকার উদ্দেশে আবার রওনা হয়।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুর রহমান বলেন, ইউরেনিয়ামবাহী লরিবহরের চলাচলকে কেন্দ্র করে পুরো পথে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন।
তিনি জানান, সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে বহরটি পাঁচলিয়ার আন্তঃনগর ট্রাক বিশ্রামাগারে পৌঁছায়। সেখানে প্রায় ৫০ মিনিট অবস্থানের পর লরিগুলো আবার রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পারমাণবিক জ্বালানিবাহী বিশেষ উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা চালানটি গ্রহণ করেন।
রূপপুর প্রকল্পের নির্ধারিত জ্বালানি সরবরাহ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে আরও কয়েকটি চালানে ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পাবনার ঈশ্বরদীতে রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পটিতে দুটি ইউনিট রয়েছে, যার মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
ইউরেনিয়ামবাহী বহরের চলাচল ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
জি বাংলা ডেস্ক